Khude Biggani- A Bengali Story । বাংলা অনু গল্প

এটি আমাদের Bangla Golpo সেগমেন্ট। আপনি কি এই ধরণের গল্পগুলি খুঁজছেন যেমন- bangla golpo, bangla sad story, bangla dhukhkher golpo, bangla real story, bangla koster golpo, notun bangla golpo, story in bengali তাহলে আপনি সঠিক সাইটে এসেছেন।

এখানে আমরা বিভিন্ন ধরনের বাংলা গল্প শেয়ার করব। আমরা বাঙালিরা প্রায় সবাই গল্প পড়তে পছন্দ করি। ব্যোমকেশ রহস্য-রোমাঞ্চ থেকে শুরু করে ভালবাসার গল্প দুঃখের গল্প সব রকম গল্প আমরা পড়তে পছন্দ করি। তাই ওয়েবসাইটে আমরা আপনাদের কাছে নানা ধরনের Golpo এর সম্ভার তুলে ধরবো আর সব গুলি হবে বাংলায়।


নিজের মাতৃভাষা বাংলায় যদি আপনি ভালো ভালো Bangla Golpo পড়তে চান তাহলে আমাদের এই ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে থাকুন। আমাদের এই ওয়েবসাইটে আমরা ভবিষ্যতে আরও বাংলা কবিতা বিভিন্ন লেখা এবং নানা ধরনের অন্যান্য বাংলায় কোয়েটস গুলি আলোচনা করব।

এই ওয়েবসাইটে আপনি যাতে বাংলা ভাষায় ভালো ভালো কোয়েটস, স্ট্যাটাস, গল্প-কবিতা যাতে পান সেটি আমাদের প্রচেষ্টা। চাইলে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন, এর জন্য আপনাকে মেইল এড্রেসে যোগাযোগ করতে হবে। আজকে আমরা একটি ভালবাসার গল্প নিয়ে আলোচনা করব তাহলে শুরু করা যাক।


আজকের গল্প- খুদে বিজ্ঞানী

লকডাউন চলছে। স্কুল বন্ধ। রাহুলের দুষ্টুমিও বেড়েছে। সবেমাত্র ক্লাস সিক্সে উঠেছে। বিজ্ঞান পড়ার নামে গোটা বাড়িটাই আজকাল ল্যাবরেটরি বানিয়ে ফেলেছে।

বিশ্বজিৎ আর সোমার এই একটাই ছেলে। বিশ্বজিৎকে অফিস যাওয়ার আগে রোজ ছেলের বিজ্ঞানের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। সে নিজে একটি নামজাদা কোম্পানির চিফ কেমিষ্ট। কিন্তু হলে কি হবে? বিজ্ঞানের সব বিষয়গুলির ওপর ছেলের প্রশ্নবাণে অনেকসময় বাবা নিজেও জর্জরিত হন।

আর যেই বিশ্বজিৎ মাস্কমুখে অফিস বাসে উঠলো, ব্যাস। বাবাকে টাটা দিয়েই সোজা বাগানে। পেছন ফিরেই সোমা দেখে সামনের বাগানে ঢুকে রাহুল কি সব করছে। সোমা চেঁচায়,
রাহুল ওখানে কি করছিস?
মা তুমি ইতিহাসের ছাত্রী এসব বুঝবে না। বায়োলজির প্রোজেক্ট ওয়ার্ক চলছে।
সোমা দেখে ছোট ছোট চারাগাছ গুলো মাটি থেকে তুলে শেকড়টাকে স্কেল দিয়ে মাপছে। 
সোমা এটকুই শুধু বলে,
-হাত পা কেটো না। আর বড় ফুল গাছে হাত দিও না।
-তুমি নিশ্চিত থেকো মা। আমাকে জীববিজ্ঞানি হতেই হবে।
ভাইরাসের টিকা আবিষ্কার করবো। দেখছো না সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা কত চেষ্টা করছে।
সোমা বোঝে এই প্রসঙ্গে রাহুলের সাথে সে কথায় পারবে না। তাই সে ভেতর বাড়ির দিকে পা বাড়ায়।

রাত্তিরে বিশ্বজিৎ এলে সোমাকে গল্পচ্ছলে হলেও ছেলের সারাদিনের রিপোর্ট জানাতে হয়। রাহুল তখন অন লাইনে শিক্ষকের কাছে পড়ে। সায়েন্স টিচাররা পি টি এমে ওর খুব উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তাই মা বাবা সবটাই মেনে নিয়েছে।
তবে সবটাতেই যে বিজ্ঞান মনস্কতার চিহ্ন ধরা পরে তা ঠিক নয়। কত গুলো খেলার মধ্যেও পরে। এসবগুলো বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতরে স্থান পায়। সোমার নজরে থাকে।

যেমন, লাল কেন্নোগুলো সুতো দিয়ে জুড়ে মালগাড়ি। মাকে ডাকে,
-মা শীগগীর এসো। এই দেখো মালগাড়ি যাচ্ছে। সোমা হেসে
লুটোপটি  । প্রথম কেন্নোটা যেন ইঞ্জিন আর বাকি গুলো বগি।
-দেখো মা লকডাউনে ট্রেন চলছে।
আরেকদিন সোমার সেলাই মেশিনের সুতো দিয়ে মাকড়সার জাল বারান্দা জুড়ে বানিয়েছে। সোমা বুঝেছে ঐ সুতোর আর কিছু ফেরৎ আসবে না। বিকেল বেলায় দেথে কোথা থেকে একটা বুড়ো মাকড়সা ধরে নিয়ে ঐ জালটার সেন্টারে রেখেছে। মাকড়সাটা মনে হল ভয় পেয়েছে। নড়েও না চড়েও না। 
রাহুল একটু মজা করে মাকে বলে,
বুঝলে মা,ওর বাসা ঐ বানাবে। আমি কেন বানিয়েছি তাই ওর রাগ হয়েছে।
সেদিন সকালে ব্রেকফাস্ট খেতে খেতে বাবার বিষয়ের ওপর রাহুল একটা  প্রশ্ন করে।
-আচ্ছা বাবা, জলে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন আছে। হাইড্রোজেন নিজে জ্বলে কিন্তু জ্বলতে সাহায্য করে না। আবার অক্সিজেন নিজে জ্বলে না, জ্বলতে সাহায্য করে।

বিশ্বজিৎ থামিয়ে বলে,
-তোর প্রশ্নটা কি সেটা বল ? বিশ্বজিৎ অফিসের তাড়া দেখায়। সেটা কি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সেই আশঙ্কায় কিনা বোঝা যায় না। 
রাহুল আবার শুরু করে,
-তাহলে বাবা তুমিই বলো জলের মধ্যে এই ধর্মগুলো কোথায় গেল? উল্টে জল আগুন নেভায়। এটা কেন হবে?
বিশ্বজিৎ উত্তরে এইটুকুই বলে, 
-শোন যার যার সাথে মিলে যেটা তৈরি হয় তার মধ্যে ওদের গুন আর থাকে না, একদম নতুন কিছু তৈরি হয়। 
রাহুল সাথে সাথে বলে, 
-এবার বুঝেছি চিনি মিষ্টি অথচ চিনিতে যে কার্বন থাকে সেটা তো কালো কার্বন মানে কয়লা।
বিশ্বজিৎ তাড়াতাড়ি উত্তর দেয়, 
-একদম ঠিক বলেছিস।
বলেই প্রসঙ্গের ইতি টানে।

কিন্তু আজ রাহুল সত্যিই একটু অন্যায় করে ফেলেছে। গতকাল রবিবার বিশ্বজিৎ বাগানের এক কোনে কত গুলো ভালো ভালো ফুলের বীজ পুঁতে ছিল। রাহুল জানতো না।
ঐ জায়গাতেই বায়োলজির প্রজেক্ট ওয়ার্কের জন্য রাহুল কি সব করেছে। মানে বীজগলো নষ্ট হয়ে গেছে।
সন্ধ‍্যেবেলায় রাহুলকে বকাঝকা চলছে। হঠাৎ বিশ্বজিৎ বলে ফেলে,
আমি বা তোর মা কেউই ছোটবেলায় তোর মত এরকম ছিলাম না। অন্তত আমাদের মা বাবা তো সেরকমটি কোনদিন বলে নি। আর তুই এমনটি হলি কিভাবে?
রাহুল উত্তরে বলে, 
-কেন তুমিই তো বললে? হাইড্রোজেন আর অক্সিজেনের যা ধর্ম জলের ধর্ম তো আলাদা হবেই।
বিশ্বজিৎ উত্তর শুনে হতভম্ব। সোমার তো মাথার ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। এ ওর মুখ চাওয়াচায়ি করে।

লেখা- 📝 দেবপ্রসাদ কুশারী
   ।।।সমাপ্ত।।‌।

উপসংহার-

আশা করছি আপনাদের Golpo(গল্প) সেগমেন্ট টি ভালো লেগেছে। কেমন লাগলো আজকের লেখাটি।


যদি লেখাটি ভালো লেগে থাকে তবে আপনার মতামত নিচে কমেন্ট বক্সে জানান  এবং যদি ভালো লেগে থাকে আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল। আর এরকমই আরও লেখা পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করতে থাকুন । আপনার নিজের গল্প/লেখা/কবিতা এখানে পোস্ট করতে আমাদের মেইল করুন quotesinbengali@gmail.com ঠিকানায় অথবা এখানে ক্লিক করুন  ।


 Also Check :

Post a Comment

If you have any doubts please let me know.

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো