Ratri (রাত্রি) - ভাই ও বোনের সরল ভালোবাসার গল্প - Quotes In Bengali
Latest Update
Loading...

Ratri (রাত্রি) - ভাই ও বোনের সরল ভালোবাসার গল্প

এটি আমাদের Bangla Golpo সেগমেন্ট। এখানে আমরা বিভিন্ন ধরনের বাংলা গল্প শেয়ার করব। আমরা বাঙালিরা প্রায় সবাই গল্প পড়তে পছন্দ করি। ব্যোমকেশ রহস্য-রোমাঞ্চ থেকে শুরু করে ভালবাসার গল্প দুঃখের গল্প সব রকম গল্প আমরা পড়তে পছন্দ করি। তাই ওয়েবসাইটে আমরা আপনাদের কাছে নানা ধরনের Golpo এর সম্ভার তুলে ধরবো আর সব গুলি হবে বাংলায়।

Read: Top 50 sad quotes in Bengali

নিজের মাতৃভাষা বাংলায় যদি আপনি ভালো ভালো Bangla Golpo পড়তে চান তাহলে আমাদের এই ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে থাকুন। আমাদের এই ওয়েবসাইটে আমরা ভবিষ্যতে আরও বাংলা কবিতা বিভিন্ন লেখা এবং নানা ধরনের অন্যান্য বাংলায় কোয়েটস গুলি আলোচনা করব।

এই ওয়েবসাইটে আপনি যাতে বাংলা ভাষায় ভালো ভালো কোয়েটস, স্ট্যাটাস, গল্প-কবিতা যাতে পান সেটি আমাদের প্রচেষ্টা। চাইলে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন, এর জন্য আপনাকে মেইল এড্রেসে যোগাযোগ করতে হবে। আজকে আমরা একটি ভালবাসার গল্প নিয়ে আলোচনা করব তাহলে শুরু করা যাক।

Read: Top 50 Motivational Quotes In Bengali

আজকে আমাদের গল্পের দ্বিতীয় পর্ব। আজকের গল্পের নাম হল রাত্রিগল্পটা লিখতে আমি নিজেই কেঁদে ফেলছি।
Golpo- Ratri
রাত্রি- এ ভাই শোন একটু।।
রানা-:(ঘুম জড়িত কন্ঠে) কিরে কি হয়েছে?
রাত্রি-:  তুই কলেজ যাবি না, মা বকছে তো !
রানা-: হ্যা রে যাবো।
রাত্রি-: তাহলে  তাহলে মহিষের মত তারপরে করে ঘুমাচ্ছিস কেন?  জলদি ঘুম থেকে ওঠ।
রানা-:ওরে আমার  ছোট বুড়ির এত শাসন ?
রাত্রি-: হুম, এই বাদড় তোকে উঠতে বলছিনা।
রানা-:    উঠছি তো এখনই তুই এত জ্বালাচ্ছিস কেন?

"""""""""""
খুব দ্রত উঠে রানা রাত্রিকে একটা পাপ্পি দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেল। রানা বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে আর রাত্রি হল তার একমাত্র আদরের ছোট বোন। সারাদিন দুষ্টুমিষ্টি ভালবাসায় কাটে এদের দিন। রানা ফ্রেস হয়ে নাস্তার টেবিলে বসলো। রানা-:মা রাত্রি কি  টিফিন করেছে?
মা-: না, তোর পাগলি বোন কি তোকে ছাড়া খায়?
রানা-: হুম।রাত্রিকে ডাকো।
"""""""""""""
রাত্রি-:  কিরে আমায় ডাকলে তুই ?
রানা-:হুম, এই  ছোট বুড়ি তুই খাসনি কেন?
রাত্রি-: গাধা টা আমি কি তোকে ছাড়া কখনো একা খাই?
রানা-:বুঝেছি পাকা বুড়ি, এখন বস টিফিন করবি।
রাত্রি-: ঠিক আছে।

""""""""""
রানা-:কিরে কিছুই তো খাচ্ছিসনা।
রাত্রি-: খাবো কিভাবে?
রানা-: কেন তোর হাত আছেনা?
রাত্রি-: আছে, কিন্তু,,,,।
রানা-: কিন্তু কি? বল।
রাত্রি-: আমার হাত তো......।
রানা-: দেখি কি হয়েছে তোর হাতে।
রাত্রি-: কই কিছুনাতো।
রানা-:  হায় রে ভগবান, এটা কিভাবে হলো? তোর হাত এতখানি পুড়লো কিভাবে?
রাত্রি-: ধুর গাধা এইটুকু কিচ্ছু হবেনা।
রানা-: আজকে আর কলেজে যাবোনা। মা, ওমা এদিকে আসো তাড়াতাড়ি।
মা-: কি হয়েছে?
রানা-: রাত্রির হাত পুড়ে গেল কিভাবে?
মা-: এইতো আমাকে বললো, মা আমি আজকে  ভাইয়ের জন্য রুটি বানাবো।আমি বললাম তুই পারবিনা কিন্তু জানিস তো তোর বোন কত জেদী মেয়ে কিচ্ছু শোনেনা।তারপর আমি ওকে রান্না ঘড়ে রেখে রুমে এসেছিলাম।তারপর ও গ্যাস চালু করে কিভাবে যেন পুড়ে ফেলে।
রানা-: এই পাগলি তুই রুটি বানাতে গেছিলি কেন?
রাত্রি-: বা রে আমার ভাইটার জন্য বুঝি আমি রুটি বানাতে পারবোনা।
রানা-: হুম শিখেছিস তো বড় বড় কথা তাহলে হাত পুড়ে গেল কেন।
রাত্রি-: ধুরর এইটুকু কিচ্ছু হবেনা।

""""""""""
রাত্রিকে এসব বলছিলো আর রাকিবের দুচোখ বেয়ে জল পরছিল। আর ভাবছিল এত ভালবাসে তাকে এই  ছোট্ট বুড়িটা, এইটুকু বয়সে সে এতকিছু করতে চায় তার জন্য।

"""""""
রাত্রি-: এই তুই কাঁদছিস কেন?
রানা-: এরকম করতে আছে কি বল ।তোর কিছু হলে আমি বাঁচবো কি করে?
অনেকটা পুড়ে গেছে রাত্রির হাত তবু যেন সেদিকে তার খেয়াল নেই।
ভাইয়ের কথা শুনে খুশি হয়ে সে তার মাকে বলে,,
রাত্রি-:ও মা তুমি তো বলছিলা  আমার ভাই পচা। তুমি পচা,, দেখো ভাই কত ভাল,,ভাই বলেছে আমি তার  হৃদয়ের টুকরো।
রানা-: আর কোনদিন রুটি বানাতে যাবিনা।
রাত্রি-: আচ্ছা। ভাই আর  কান্না করো না।
রানা-: আর মা তুমি আমাকে বললেনা কেন একথা।
মা-: তোকে বলিনি কারন,তুই আবার চিল্লাচিল্লি, কান্না শুরু করে দিবি।
রানা-: এই বুড়ি চল ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো তোকে।
রাত্রি-: এই গাধা আমি বুড়ি না।তুই বুড়ো।

""""""""
তারপর রানা রাত্রিকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যায়।
রানা অনেক ভালবাসতো তার এই ছোট বোনকে।রাত্রির সামান্য কিছু হলেই রানা কাঁদত।
এভাবে চলতো তাদের ভাইবোনের পবিত্র ভালবাসা।

"""""""""
একদিন কিছু একটা নিয়ে মা বাবার সাথে ঝগড়া হয় রানার।
সেদিন রানা সারাদিন বাসায় ফেরেনি। বাসায় না ফেরার কারনে রাত্রিকে অনেক চেষ্টা করেও একটিবারেও খাওয়াতে পারেনি কেউ। আরা প্রচন্ড কান্না করতেছিল সে।
রাত্রি-: তোমরা সবাই পচা, তোমাদের জন্য আমার সোনা ভাইটা চলে গেছে, তোমরা💞💞💞💞

সবাই ঘুমিয়ে পড়লেও ভাইয়ের আশায় জেগে থাকে ছোট্ট মেয়েটি।
অনেক রাতে রানা বাসায় ফিরে আসলো আর না খেয়েই রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লো।
রানা যে এসেছে এটা রাত্রি ঠিক বুঝতে পারলো কারন সে তখনো জেগে ছিল আর  কাঁদছিল। রাত্রি তখন দ্রুত টেবিল থেকে এক প্লেট ভাত নিয়ে রানার রুমে গেল।

রাত্রি💕💕💕�
রানা-:(ঘুম জড়িত কন্ঠে) কিরে বুড়ি কিছু বলবি?
রাত্রি-:(কাদে আর বলে) ও ভাইয়া তুমি কোথায় ছিলে সারাদিন। রাত্রির কান্নার শব্দ শুনেই বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে যায় রানা
রানা-:এই পাগলি তুই কাঁদছিস কেন? আর তোর হাতে ভাতের প্লেট কেন? 
রাত্রি-:আমি ভেবেছিলাম তুমি চলে গেছো। আর সারাদিন তো মনে হয় কিছু খাওনি কারন তুমি তো আমাকে না খাইয়ে দিয়ে আগে কিছু খাওনা"""""""" এরপর রানা রাত্রির হাত থেকে ভাতের প্লেট নিয়ে টেবিলে রেখেই রাত্রিকে জড়িয়ে ধরে  কাঁদতে থাকে আর সাথে রাত্রি

রানা-:  আমি এই  ছোট্ট বুড়িটাকে রেখে কোথাও যাবোনা।আমি জানি তুইও সারাদিন না খেয়ে আছিস কারন তুইও তো আমাকে ছাড়া খাসনা""""""""" এরপর রানা নিজের হাতে রাত্রিকে খাইয়ে দেয় আর নিজেও খায়। সকালে মা রাত্রিকে বিছানায় না পেয়ে  খুঁজতে খুঁজতে রানার রুমে চলে যায যায়। তিনি দেখতে পান  ছোট্ট বুড়িটা তার ভাইয়ের বুকের উপর ঘুমিয়ে আছে আছে।

এটে দেখে তিনি সব বুঝতে পারলেন।নিজের চোখের  জলকে আর আটকাতে পারলেন না,  কেঁদে ফেললেন  দুই ভাই-বোনের ভালবাসা দেখে।

"""""""""""
কে জানতো এমন একটা ভালবাসার মধ্যেও কালবৈশাখী ঝড় প্রবেশ করে ভাইবোনের এই পবিত্র ভালবাসার ইতি টানবে।

"""""
কিছুদিন পর রানার বাবা মা তাদের গ্রামের বাড়িতে যেতে চাইলো রাত্রিকে নিয়ে।কিন্তু রাত্রি রানাকে ছেড়ে যেতে চাইল না, আর রানাও যেতে দিতে চাইল না।
বাবা মা অনেক বুঝিয়ে রানা আর রাত্রিকে রাজি করালো।
এরপর তারা রাত্রিকে নিয়ে গ্রামে চলে গেল আর রানা একা থেকে গেল বাড়িতে কারন তার কলেজ  আছে।  আছে💗💗💖💖

""""""""

এরপর প্রতিদিন বারবার ছোট্ট বুড়িটা ফোন দিয়ে রানার খোঁজ নিত,,,,খেয়েছে কিনা, তার জন্য যেন না  কাঁদে  আরও অনেক কিছু।
এরপর ঘটলো এক ভয়ানক দূর্ঘটনা যা সব শেষ করে দিল💔💔
রাত্রিকে সহ তার বাবা মা শহরের উদ্দেশ্য রওনা দিলো। অনেকটা পথ এসেই ঘটলো দূর্ঘটনা। তাদের সেই বাসটা নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পরে যায় বিশাল একটা খাদে।তারপর সব শেষ। 

তার বাবা মা যখন জ্ঞান ফিরে পেল তখন তারা রাত্রিকে  খুঁজতে লাগল সেই হাসপাতালে। ডাক্তাররা জানায় বাসের সবাইকে এই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছেতারা  খুঁজতে খুঁজতে মর্গে চলে গেল যেখানে লাশ রাখা ছিল। একটা একটা করে লাশ দেখতে হঠাৎ চিৎকার করে উঠলেন রানার মা। বুঝতে আর বাকি রইলনা যে, পৃথিবী ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে গেছে  ছোট্ট বুড়ি রাত্রি।

রাত্রির বডিটা একদম বিভৎস্য হয়ে গেছে, মনে হয় উল্টে যাওয়া বাসের নিচে পরে গেছিল। এটা সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যায় তার মারানাকে ফোন করল💘💘💘 রানা পাগলের মতো ছুটে এলো হাসপাতালে। এরমধ্যে তার মায়ের জ্ঞান ফিরেছে।রানা এসেই চিৎকার করতে থাকে, কোথায় রাত্রি। এরপর রাত্রির লাশের কাছে তাকে নিয়ে যাওয়া হল।

রাত্রিকে দেখেই হতভম্ব হয়ে যায় রানা।অনেকক্ষন কোন কথা বলেনা। সবাই ভাবলো এ আবার পাগল হল নাকি। হঠাৎ চিৎকার শুরু করে দিল রানা আর তার বাবা মাকে বলতে লাগল,,, 

রানা-: (চিৎকার করে) তোমরা খুনি,তোমরাই মেরে ফেলেছো আমার  ছোট্ট বুড়িটাকে, তোমাদের কতো করে বললাম ওকে নিয়ে যেওনা, পাগলীটা থাকতে পারবেনা আমাকে ছাড়া তবুও তোমরা নিয়ে গেলে আর মেরে ফেললে, ফিরিয়ে দাও আমার  ছোট্ট বুড়িকে। """"""" 
রানার চিৎকার শুনে হতভম্ব হয়ে যায় পুরো হাসপাতাল...
রানা-:(  কেঁদে কেঁদে) কিরে পাগলী তুই নাকি আমাকে ছাড়া থাকতে পারিসনা, তুই তো আমাকে না দেখলে কেঁদে ফেলিস তাহলে এখন ঘুমিয়ে আছিস কেন? কেন একা রেখে গেলি আমাকে  স্বার্থপরের মতো? ওঠনা পাগলি আর কখনো তোকে ছেড়ে কোথাও যাবোনা, ও বাবা ও মা আমার  ছোট্ট বুড়িটা কথা বলেনা কেন, ও কি আর ঘুম থেকে উঠবে এসব বলে আর চিৎকার করে  কাঁদে রানা। ওর কান্না দেখে সবাই  কেঁদে  ফেলে। 

"""""""""""" 
তারপর সেই ছোট্ট পরীটাকে ছোট্ট সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা হলো । এরপর প্রতিরাতেই রানাকে চিৎকার করে  কাঁদতে শোনা যায়।বেশিরভাগ সে যখন খেতে বসতো আর ছোট্ট বুড়িটাকে দেখতো পেতোনা খাবার টেবিলে তখন মাঝে মাঝে রানাকে  শ্মশানে দেখা যেত। সে বলতো, কিরে বুড়ি কিভাবে আছিস আমাকে ছেড়ে,  তোর কি আমার কথা মনে পড়ে না। যেখানেই থাকিস ভালো থাকিস।

👉👉  লেখক- Shahariyar Sahed Tonmoy"
উপসংহার-

আশা করছি আপনাদের Bangla Golpo সেগমেন্ট ই ভালো লেগেছে। কেমন লাগলো আজকের গল্পটি।

যদি গল্পটি ভালো লেগে থাকে তবে আপনার মতামত নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আর এরকমই আরো গল্প পেতে বা আপনার নিজের গল্প এখানে পোস্ট করতে আমাদের মেইল করুন quotesinbengali@gmail.com ঠিকানায়।

Also Check :



Share with your friends

Add your opinion
Disqus comments
Notification
Want to write your stories, poems, quotes on this website mail us- Quotesinbengali@gmail.com
Done